
।। বান্দরবান প্রতিবেদক।।
বান্দরবানের আলীকদমে প্রকল্পের কাজের কমিশন নেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আলীকদম প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও কেএম নজরুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে। শুধু কমিশন নয় দুটি প্রকল্পে ওই ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্যকে প্রকল্পের সভাপতি দেখিয়ে নিজেই ঠিকাদারী করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ আছে, আলীকদম নয়াপাড়া ইউনিয়নের দুটি প্রকল্পের ইউপি মহিলা সদস্যকে সভাপতি দেখিয়ে নিজেই প্রকল্পের কাজ করে। সে সব কাজের বিলও উত্তোলন করে ফেলেছেন পিআইও নিজেই। কমিশন বানিজ্য, প্রকল্পের বিল আটকে রাখাসহ পাহাড় সমান অভিযোগ রয়েছে। এখানে শেষ নয় এর আগেও সুনামগঞ্জের দিরায় উপজেলাতে একই পদে থাকাকালীন নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগে ত্রাণ অধিদপ্তরে বদলী করা হয়। সেখানেও তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগের পর এক প্রকার
শাস্তিমূলক হিসেবে বান্দরবান আলীকদমে বদলী করে দেন ত্রাণ অধিদপ্তর। এখানে এসেও সেই দুর্নীতির আখড়া বেড়াজাল বেধেছেন তিনি।
জানা গেছে, প্রতিটি প্রকল্পের জনপ্রতিনিধিদের কাজ থেকে অফিসের নানা খরচ দেখিয়ে ১৫ শতাংশ কমিশন নিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। কমিশন না দিলে কাজের বিল আটকিয়ে নানা হয়রানি করা হয়। শুধু কি কমিশন ? চলতি অর্থ বছরে গ্রামীন কাঠামো টিআর প্রকল্পের অন্যকে সভাপতি বানিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে ফেলেছেন নিজেই। আর সেই প্রকল্পের ভুক্তভোগী ৭.৮.৯ ওয়ার্ডের ইউপি নারী সদস্য। পড়ালেখা ও শিক্ষিত না হওয়াতেই তাকেই প্রকল্পের সভাপতি বানিয়ে এমন লুটপাটের চালাচ্ছে পি আইও।
জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, কাবিখা, কাবিটা, টিআরসহ বিভিন্ন প্রকল্পে প্রতিটি কাজের কমিশন হিসেবে ১৫ শতাংশ গ্রহন করে থাকেন। এর আগেও প্রায় ২৫ শতাংশ হারে কমিশন নিতেন পিআইও। তাই বিভিন্ন প্রকল্পের জনপ্রতিনিধিরা নিয়ম মেনে আবেদন জমা দিলেও প্রকল্পের কাজের নির্দিষ্ট অঙ্কের ‘কমিশন’ দিলে ফাইলের গতি বদলে যায় আশ্চর্যজনকভাবে। এভাবে প্রতিটি কাজের প্রকল্পের ১৫ শতাংশ কমিশন নেয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পে অন্যকে সভাপতি দেখিয়ে নিজেই কাজের বাস্তবায়ন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আলীকদমে নয়াপাড়া ইউনিয়নে ৯নং ওয়ার্ডের ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে গ্রামীন কাঠামো টিআর ১ম পর্যায়ে প্রকল্পের মেরিনচর পাড়া সোনে স্কুলের রাস্তা মেরামত। সেখানে প্রকল্পের ওই ইউপি নারী সদস্যকে সারথী রানী ত্রিপুরাকে সভাপতি দেয়া থাকলেও মুল প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে পিআইও নিজেই বাস্তবায়ন করছেন। আর সেখানে মুঠোফোন নাম্বার দেয়া থাকলেও মহিলা সদস্য নাম্বার না দিয়ে ভুল নাম্বার সংযুক্ত দেয়া হয়েছে। একই চিত্র বুজিরমুখ পাড়া যাওয়ার রাস্তায় যাত্রী ছাউনি নির্মাণেও। দুটি প্রকল্পের একই মহিলা ইউপি সদস্যকে ব্যবহার করে এই দুটি প্রকল্পের নিজেই ঠিকাদার হয়ে বাস্তবায়ন করেছেন পিআইও। এই দুটি বরাদ্ধ ছিল পাঁচ লাখ টাকা। সেই দুটি প্রকল্পের কাজের বরাদ্ধ ইউপি নারী সদস্য মাধ্যমে বিল তুলে ফেলেছেন পি আইও।
কুরুকপাতা ও নয়াপাড়া দুই ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাংপু ম্রো ও কফিল উদ্দিন বলেন, প্রতিটি কাজে প্রায় ১৫ পার্সেন্ট কমিশন নিয়ে থাকে। কমিশন না দিলে কোন কাজ কিংবা বিল দিচ্ছে না। এর আগেও ২৫ পার্সেন্ট কমিশন নিতেন। এখন কমিয়ে দিয়ে ১৫ শতাংশ কমিশন নেন। তবে সেসব কমিশন বিষয়ে ইউএনও জানেন নাহ বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছে।
বান্দরবানে ঠিকাদার শামীম হোসেন জানান, উপজেলায় পিআইও থেকে একটি প্যাকেজে দুটি ব্রীজ বরাদ্ধ পেয়েছিলাম। দুটি কাজে বরাদ্ধ ছিল প্রায় ১কোটি ৭০লাখ। একটি ব্রিজের নানা খরচ দেখিয়ে দশ লাখ করে দুটি ব্রিজে বিশ লাখ টাকা পিআইও আদায় করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একজন কর্মকর্তা বলেন, এসব নিউজে তিনি তোয়াক্কা করে না। এর আগে বহুবার তার নামে অনিয়ম,দুর্নীতি অভিযোগ ছিল। শাস্তিস্বরূপ এখানে বদলী হয়ে এসেছে। তাই যতই লিখুক তার কিছু করতে পারবে না বলে ঘাড় টেরা করে থাকেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এবিষয়ে প্রকল্পের সভাপতি ইউপি মহিলা সদস্য সারথী রানী ত্রিপুরা সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, মেরিনচর পাড়া সনের স্কুলের সামনে যে রাস্তা সেঈ প্রকল্পের সভাপতি আমাকে বানিয়ে পিআইও নিজেই কাজ করেছে। কাজ শেষে করে সব টাকা ওনাকে দিয়ে ফেলেছি। আমার প্রকল্পের কাজেও ১৩ শতাংশ নাম করে ৪৯ হাজার টাকা কেটে ফেলেছে পি আইও। আমি অশিক্ষিত,বুঝিনা ও জানিও না।
অভিযোগের বিষয়ে আলীকদম প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও কেএম নজরুল ইসলাম বলেন, আপনারা যাই পারেন লিখেন তাতেই আমার কিছু যায় আসে না। আমার নামে কত লিখেছে' সে লেখার কারণে আজ বান্দরবানে আসছি। পারলে আরো লিখেন বলে ঠাট্টায় উড়ে দেন।
এবিষয়ে আলীকদম নির্বাহী অফিসার মঞ্জুর আলম জানান, পিআইও কমিশন বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই আর জানিও না। জনপ্রতিনিধিরা এবিষয়ে আমাকে কোন অভিযোগ করেনি। ঠিকাদার ও কমিশন বিষয়টি খোজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।