
।।মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান)।।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কমিউনিটি নার্সিং প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে ৩৬ বীর রুমা জোন। স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সোমবার (১৬ মার্চ) রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩৬ বীর রুমা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ মেহেদী সরকার, এসবিপি, পিএসসি। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রীসম্বলিত মেডিকেল ব্যাগ, সনদপত্র এবং স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক হ্যান্ডবুক তুলে দেন।
প্রেস নোটে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সুপরিচিত হলেও দুর্গম পাহাড়ি জনপদে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে সীমিত। বান্দরবান জেলার প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কিছু কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও দুর্গম পাড়া-গ্রামের মানুষের কাছে সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ৩ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত তিন সপ্তাহব্যাপী কমিউনিটি নার্সিং প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকার মোট ৬৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে প্রাথমিক রোগ নির্ণয়, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান, জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর সেবা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোনের উপ-অধিনায়ক মোঃ মাহফুজ আলম। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল আল হাসান, পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা, রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিরা বম, গালেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রো, রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা, অগ্রবংশ অনাথ আশ্রমের নির্বাহী পরিচালক উঃ নাইন্দিয়া থেরো, রুমা থানার এএসআই আসাদ, হেডম্যান লাল লিয়ান সম সাইলুকসহ উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ, প্রশিক্ষণার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।