
।।বান্দরবান প্রতিবেদক।।
বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের বোচা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী রেশমি ত্রিপুরা (৬) কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ক্লাস চলাকালীন রেশমিকে ব্ল্যাকবোর্ডে ইংরেজি বর্ণমালা লিখতে বলেন শিক্ষক ফরিদুল । লিখতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্রীকে চড় মারেন শিক্ষক। এতে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় শিক্ষকেরা সিসিটিভি বন্ধ করে শিশুটির মুখ চেপে ধরেন যাতে কান্নার শব্দ বাইরে না যায়। পরে সহপাঠীরা অজ্ঞান অবস্থায় তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটির মা তাকে নিয়ে স্কুলে গিয়ে শিক্ষকের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চান। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক কোনো উত্তর না দিয়ে অফিস কক্ষে অবস্থান করেন। পরে গ্রামবাসীরা বিদ্যালয়ে গিয়ে তাকে ঘেরাও করে এবং ঘটনার জবাবদিহিতা দাবি করেন। তারা এমন শিক্ষকের অপসারণও দাবি জানান।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা রজনী ত্রিপুরা বলেন, আমার মেয়ে বর্ণমালা লিখতে না পারায় তাকে চড় মেরে অজ্ঞান করে ফেলেছে। মারার সময় সিসিটিভিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ছোট বাচ্চাদের এভাবে মারলে তারা কোথায় যাবে? আমরা এমন শিক্ষক চাই না এর বিচার আমরা চাই।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা জানান, ঘটনার সময় শিশুটির বাবা-মা দুজনই জুম চাষে ব্যস্ত ছিলেন। মেয়ের অজ্ঞান হওয়ার খবর পেয়ে তারা দ্রুত বাড়িতে এসে তাকে নিয়ে স্কুলে যান এবং শিক্ষকের কাছে জবাব চান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ফরিদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
লামা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এটিও আশরাফ জানান, “ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি আমাদের অবগত করেছে। ছোট শিশুকে এভাবে মারধরের কোনো আইন নেই। পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিনয় চাকমা বলেন, বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।