সরাইলে সেই আলোচিত ৯ বছরের শিশু রাহাদকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা: আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার
অসীম চন্দ্র দাস, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
কিছুদিন আগে নিজের পিতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে ব্যাপক আলোচনায় আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সৈয়দটুলা পশ্চিম পাড়ার মাত্র ৯ বছর বয়সী শিশু রাহাদকে এবার নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। গত কাল রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সরাইলের পাঠান পাড়া এলাকা থেকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে শিশু রাহাদকে সরাইলের পাঠান পাড়া এলাকায় আশঙ্কাজনক ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন সচেতন মানুষ। তাদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে রাহাদকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এলাকাবাসী জানান, যদি স্থানীয় মানবিক সমাজ তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজে এগিয়ে না আসত, তবে আরও ভয়াবহ কিছু ঘটে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা ছিল।
কোমলমতি একটি শিশুর ওপর এমন নির্মম ও শিউরে ওঠার মতো ঘটনায় পুরো সরাইল এলাকাজুড়ে গভীর শোক, আতঙ্ক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, এ ঘটনা শুধু একটি শিশুর ওপর বর্বরতা নয়, বরং আমাদের পুরো সমাজের নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর এক চরম আঘাত। এর আগে রাহাদ মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবার বিরুদ্ধে থানায় আইনি আশ্রয় চেয়ে নিজের সাহসিকতার প্রমাণ দিয়েছিল। সেই ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুটি কেন এবং কার আক্রোশের শিকার হলো, তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হোক। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির আওতায় এনে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠারও জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে চিকিৎসাধীন ছোট্ট রাহাদের দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে। এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গঠনে এই ধরনের চরম নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়া জরুরি।