রুমায় সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন ত্রিপুরা উড্ডয়ন স্পোর্টিং ক্লাব
মথি ত্রিপুরা, বিশেষ প্রতিনিধি
বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজিত ‘সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর পর্দা নেমেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রুমা উপজাতীয় আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পুরুষ ও নারী বিভাগের পৃথক ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।
রুমা জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোনের জোন কমান্ডার ও ৩৬ বীরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৩৬ বীরের ক্যাপ্টেন তৌকিবুর রহমান (রাফি)।
২২ আগস্ট শুরু হওয়া এ টুর্নামেন্টে নারী বিভাগে দুটি এবং পুরুষ বিভাগে আটটি দলসহ মোট ১০টি দল অংশ নেয়। টুর্নামেন্টজুড়ে স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে রুমার মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
নারী বিভাগের ফাইনালে রুমা উপজাতীয় আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ‘এ’ দল টাইব্রেকারে একই বিদ্যালয়ের ‘বি’ দলকে ৫-৪ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। অন্যদিকে, পুরুষ বিভাগের ফাইনালে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় ত্রিপুরা উড্ডয়ন স্পোর্টিং ক্লাব ২-১ গোলে রুমা উপজাতীয় আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
ফাইনাল খেলা দেখতে মাঠে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রুমা সরকারি সাঙ্গু কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুইপ্রুচিং মারমা, রুমা উপজাতীয় আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিময় চাকমা, রুমা অগ্রবংশ অনাথ আশ্রমের পরিচালক উঃ নান্দিয়া ভান্তে, ৩ নম্বর রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিরা বমসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি, মেডেল ও প্রাইজমানি তুলে দেওয়া হয়। পুরুষ বিভাগের চ্যাম্পিয়ন ত্রিপুরা উড্ডয়ন স্পোর্টিং ক্লাবকে ট্রফি, মেডেল ও ২০ হাজার টাকা এবং রানার্সআপ রুমা উপজাতীয় আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয় দলকে ট্রফি, মেডেল ও ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। নারী বিভাগের চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফি, মেডেল ও ১০ হাজার টাকা এবং রানার্সআপ দলকে ৫ হাজার টাকা প্রাইজমানি দেওয়া হয়।
রুমা উপজাতীয় আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিময় চাকমা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি জনপদে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে রুমা জোনের এ ধরনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও সমানতালে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা দেবে। রুমা অগ্রবংশ অনাথ আশ্রমের পরিচালক উঃ নান্দিয়া ভান্তে বলেন, রুমা জোনের এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে। জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে তোলার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। রুমার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের একসঙ্গে মাঠে এনে এ আয়োজনের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে চাই। তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও রুমা জোনের পক্ষ থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও সম্প্রীতিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
টুর্নামেন্টের আয়োজকরা জানান, পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।