থানচিতে বলিবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: আগুন নিয়ন্ত্রণে ৩৮ বিজিবির তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপ।
বান্দরবান (থানচি) প্রতিনিধি।
আজ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ০৩৩০ ঘটিকায় বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) সদর দপ্তরের ২নং গেইট হতে আনুমানিক ৫০-৬০ গজ উত্তর দিকে বলিবাজার এলাকায় মোঃ আলমগীর হোসেনের হোটেলে গ্যাস লিকেজের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যরাতের প্রতিকূল পরিস্থিতি ও আগুনের ভয়াবহতাকে উপেক্ষা করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং অগ্নিকাণ্ডের বিস্তার রোধে তৎপর হয়ে ওঠেন। ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর মোঃ ইমামুল আজিম, আর্টিলারি এবং সহকারী পরিচালক মোঃ জাকির হোসেন-এর নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় জনগণ ও ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বলিবাজারের উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত টিনশেডের আনুমানিক ১০-১২টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। মধ্যরাতে আগুনের তীব্রতা ও দ্রুত বিস্তারের মধ্যেও বিজিবি সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। একই সঙ্গে আগুন যাতে পার্শ্ববর্তী দোকান ও স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে না পারে, সে লক্ষ্যে তাঁরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালান।
বিজিবি সদস্যদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও নিরলস প্রচেষ্টার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আনুমানিক ০৪৪৭ ঘটিকায় অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এর ফলে আগুনের আরও বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয় এবং সম্ভাব্য বৃহত্তর ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়। অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৪০-৫০ লক্ষ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পরপরই বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর সদস্যদের দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিতি, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার ফলে অগ্নিকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। সংকটময় মুহূর্তে বিজিবির এই তাৎক্ষণিক সাড়া ও সহযোগিতা অগ্নিকাণ্ডের বিস্তার রোধ এবং স্থানীয় জনগণের জানমাল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো দুর্যোগ, দুর্ঘটনা ও বিপর্যয়ের সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর দায়িত্ব ও অঙ্গীকারের অংশ। বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর সদস্যরা মধ্যরাতের এই অগ্নিকাণ্ডেও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে এসে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।