অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বৃদ্ব
জিংআলহ্ বম ও ধন্যবাদ জানান ঈশ্বরের
প্রতি কৃতজ্ঞতান তিনি।
শৈলুমং মার্মা রুমা(বান্দরবান)প্রতিনিধি।
অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলাম! প্রতিবেশী মৃত্যুতে তাঁর ঘরে লাশের পাশে বসে ছিলাম । কাল বৈশাখী ঝড়ের হাওয়া বেগতিক অবস্থা বুঝতে পরে লাশের পাশ থেকে ওঠে নিজ ঘরে ফিরছিলাম। কিন্তু ঘরের বারান্দায় পা রাখতেই বড় আকৃতির গাছের ডাল ভেঙ্গে পরে ঘরের ছাদে। মাচাং ঘরের বারান্দায় ডান পা দিয়ে ঘরের মাথা ঢুকতেই গাছের ডাল ভেঙ্গে পরছিল তখন। ভাগ্যিস অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেল! না হয়, আমার এ শরীরও লাশ হয়ে যেত।
এইসব কথা বলছিলেন ৮১বছর বয়সী জিংআলহ্ বম।
শনিবার (৩০মে২০২৬) সকাল পুনায় ১০টার দিকে বান্দরবানে রুমা উপজেলা সদরে এডেন রোডে তাঁর নিজ ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন তিনি।
স্থানীয়রা জানায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে কালবৈশাখী ঝড়ে আঘাত হানের। কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবল বাতাসের আঘাতে বান্দরবানের রুমায় উপজেলা বিভিন্ন দুর্গম ইউনিয়নে যেমন , ১নং পাইন্দু ইউনিয়ন
২নং রুমা সদর ইউনিয়ন
৩নং রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়ন
৪নং গ্যালেংগ্যা ইউনিয়ন
চাষিদের বাগানে উৎপাদিত বিশেষ করে আম ও কাজুবাদাম,কালা, প্রবল বাতাসে ঝড়ে পরে যায় । তার ফলে চাষীদের অবর্ণনীয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রুমা সদর ইউনিয়নের এডেন রোড পাড়ার বাসিন্দা এবং পাড়া প্রধান কারবারী হচ্ছেন জিংআলহ বম (৮১)। তাঁর সহধর্মিণী বয়স (৭৫)। সংসারে পুত্র ও কন্যা সন্তানেরা বিয়ে হয়ে আলাদা আলাদা সাংসারিক জীবন যাপন করছে।
শেষ বয়সে এসে এখন পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুইজন আছেন।
জিংআলহ্ বম বলেন ঝড়ের একদিন আগে পাশের বাড়িতে অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষক মারা গেছে। তাঁর লাশ দাফনের কীর্তন প্রস্তুতি চলছিল। বাড়ির পাশাপাশি। দূরত্ব বড়জোর ৫০ গজ। প্রতিবেশী হিসেবে ওই ঘরে গিয়ে লাশের পাশে বসে ছিলাম। দুপুরের প্রায় ২:৩০ মিনিট দিকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়। প্রবল বাতাস শুরু হয়। লাশের ঘরে ভিড় ছিল মানুষ। জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও রুমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জুয়েল বমসহ আরো অনেকে ছিলেন। ঝড় বাতাসের সময় লাশের ঘরে বাইরে থাকা সবাই এদিক সেদিক ছুটাছুটি করছিলেন, অনেকে আমার কুঁড়ের ঘরের দিকে চলে আসেন। তখন আমিও লাঠি ভর দিয়ে নিজ ঘরে যেতে থাকি। মেহমানরা অনেকে আমার ঘরের ভিতরে ঢুকে গেছে। লাঠি ভর করে হাঁটতে হওয়ায় নিজ ঘরে পৌঁছতে দেরি হয়-আমার। ঘরে পৌঁছে বারান্দায় পা দিয়ে মাথায় ঘরে ঢুকবার মুহূর্তে গাছটি বিকট শব্দে ভেঙ্গে পড়ে ঘরের ছাদে। মুহূর্তের মধ্যে প্রচন্ড বাতাসে আম গাছের ডাল ভেঙ্গে আমার বাম কানের পাশে এসে পরে। তখন আমার কুড়ের ঘরও ভূমিকম্পের মত কম্পন ধরে। তখন ঘরে ভিতর থাকা সবাই চিল্লাচিল্লি করে বলতে থাকে মামা, কাকা বেঁচে আছেন তো! এমন শব্দ করেন। কিন্তু ঈশ্বরের দোয়ায় প্রাণে বেঁচে গেলাম। আমাকে অক্ষত অবস্থায় দেখে অনেকে-ই অবাক হয়ে ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা
এই প্রতিবেদক সরেজমিনে গেলে দেখতে পান, জিংআলহ্ বমের ঘরের ঢুকতে বামদিকে ঘরের কোণায় বড় অংশ গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়ে ছাদ দেবে গেছে। বড় আকারে গাছের ডালটি এর মধ্যে পাড়াবাসীর সহযোগিতায় ছাদ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানালেন তারা।
কিন্তু এখনো থেকে গেছে – গাছ ভেঙ্গে পরে দেবে যাওয়া ছাদ।
ভোক্তভোগী জিংআলহ বলেন সংসারে বয়স্ক স্বামী-স্ত্রী। বাগান থেকে যা আয় হয়, সেটা দিয়ে কোনরকম সংসার চলে। ঝড়ের বাতাসে বাগানে আমসহ ফসলাদি ঝরে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরও ভেঙ্গে গেছে । ঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন প্রয়োজন। কোথায় থেকে পাব? প্রশ্নটি তাঁর।
আমি চিন্তা করে উপায় পাচ্ছিনা। দরখাস্ত নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে যেতেও ঠিকমতো হাঁটতে পারছিনা। এসব দুশ্চিন্তায় স্বামী-স্ত্রী দিন কাটছি বলে জানালেন তিনি। বলেন, কেউ যদি এগিয়ে আসেন তবে ভাঙ্গা ঘরটি ঠিক করে নিতে পারব।

