১২ মাইল ওয়াই জংশন বাজারে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা
মথি ত্রিপুরা,ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের রুমা-চিম্বুক প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত ১২ মাইল ওয়াই জংশন বাজার এলাকায় মাদকদ্রব্য সেবন, ক্রয়-বিক্রয় ও সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বাজার উন্নয়ন কমিটি। এ লক্ষ্যে বাজার এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে “জিরো টলারেন্স” নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বাজার কমিউনিটি সেন্টার হলরুমে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি সাংখাম ম্রো, সাধারণ সম্পাদক মেনপা ম্রো, এলাকার কারবারিগণ, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভায় উপস্থিত সকলের সম্মতিক্রমে বাজার উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও কারবারিরা বলেন, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তারা জানান, মাদক সেবন, বহন, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা এ ধরনের যেকোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, মাদক শুধু ব্যক্তি নয়, পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সচেতন নাগরিক, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। এ সময় উপস্থিত সবাই মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং “মাদককে না বলুন, সুস্থ সমাজ গঠনে এগিয়ে আসুন” এই আহ্বান জানান।
সভায় বাজারের সার্বিক উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি সঞ্চয় তহবিল গঠনের প্রস্তাবও উত্থাপন করেন বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি সাংখাম ম্রো। তিনি জানান, বাজারের কোনো ব্যবসায়ী বা সদস্যের জরুরি সমস্যা দেখা দিলে কিংবা বাজারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে এ তহবিলের অর্থ ব্যয় করা হবে। প্রস্তাবের পর উপস্থিত সকলের সম্মতিক্রমে বাজারের প্রতিটি দোকান ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতি মাসে ২০ টাকা করে চাঁদা বা সঞ্চয় সংগ্রহের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এছাড়া বাজারকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রাখতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। বাজারের সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বক্তারা।
স্থানীয়দের মতে, বাজার উন্নয়ন কমিটির এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকায় মাদকসংক্রান্ত অপরাধ কমে আসবে, বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর সামাজিক পরিবেশ গড়ে উঠবে।

