সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দুর্গম লাংলোক ঝর্ণায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিপদে পর্যটক, জীবন বাঁচাতে ছুটে গেল বিজিবি। বান্দরবানে বিদ্যাপীঠ নার্সিং ভর্তি কোচিংয়ের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত। অপ্রতিম হত্যাকান্ডে জড়িত ৩জন আটক আইফোন উদ্ধার। থানচিতে বলিবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: আগুন নিয়ন্ত্রণে ৩৮ বিজিবির তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপ। ‎ দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান: স্বদেশে ফিরে প্রথমবার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে বম শিশুদের আবেগঘন মুহূর্ত। পাড়ায় ফিরছে বম পরিবার, খাদ্য-ঘর-জীবিকায় সহায়তা দিচ্ছে সেনাবাহিনী। জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা, সামনে নবান্ন উৎসব। দেড় মাইল পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পানি সংগ্রহ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী। ফিজিওথেরাপি সেবার মানোন্নয়ন ও বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের দাবি। সরাইলে শাহজাদাপুর ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ,

জুমের পাকা ধান সংগ্রহে ব্যস্ত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীরা

Reporter Name / ৭২ Time View
Update : রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

 জুমের পাকা ধান সংগ্রহে ব্যস্ত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীরা

মথি ত্রিপুরা, থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীদের পাহাড়ের ঢালে জংগল কেটে এক প্রকার চাষাবাদ করা পদ্ধতিই হল জুম চাষ। জুমের ধান পাকার সময় হওয়াই পাহাড়ের নতুন ধান কাটা শুরু হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ীদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র সহায়ক ও আদিম চাষাবাদ জুম চাষ। বর্তমানে জুম চাষ অনেকাংশে কমে এলেও পাহাড়ের উপরে বসবাসকারীরা এখনো বেশির ভাগ জনগোষ্ঠী জুম চাষের উপর নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমির অভাবে অনেক ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে অন্যের জমিতে জুম চাষে নির্ভরশীল হতে হয় এখানকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীদের। এসময় পাহাড়ে বেশির ভাগ জুমের ধান পেকে যাওয়ায় কৃষকেরা পাকা ধান কেটে ফসল সংগ্রহ করা শুরু করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রুমা উপজেলা ০৪ নং গালেংগ্যা ইউনিয়ন ০১ নং ওয়ার্ডে, এডেন পাড়া, রামদু পাড়া, মুংগহা পাড়া, কালা পাড়া, জৈতুন পাড়া, জিগন পাড়া আরও রয়েছে থানচি উপজেলা বলিপাড়া ইউনিয়নের সাখয় কমান্ডার পাড়া নিকটবর্তী ঢালু পাহাড়ের উপর মেয়ইপ্রু মারমা জুমের এবং বিভিন্ন জায়গায় নারী-পুরুষ মিলে পাকা ধান কাটা শুরু করেছে।

এসময় জুমের মালিক বলেন, ৪ আড়ি থেকে কেউ কেউ ১৫ আড়ি পরিমান ধান জুমে লাগায়। প্রতি আড়িতে দশকেজি ধান থাকে। জুমের পাকা ধানগুলো সেপ্টেম্বর মাস থেকে কাটতে শুরু করেন। স্থানীয়রা আশা করেন আমাদের কাঙ্খিত পরিমাণমত ধান পাওয়া যাবে ।

একই ভাবে পাশ্ববর্তী পাড়ার রুইতন ম্রো ও নাননুং ম্রোদের জুমে ধান কাটতে শুরু করেছে। ধান ছাড়াও জুমের তিল, ভূট্টা, মারফা, মিষ্টি কুমড়া, সাদা কুমড়া, বেগুন, টক পাতা, হলুদ ও আদাসহ বিভিন্ন মিশ্রণ ফসলের চাষ করা হয়। এছাড়া জুমে বিভিন্ন রঙের ফুলের চাষও করা হয়। ধান কাটা শেষে গৃহিণীরা যখন বিভিন্ন কাজে জুমে যায় তখন গাঁদা ফুল মাথায় দিয়ে বাড়িতে ফিরতো, এইটা পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী। বছর শেষে পাহাড়িরা গাঁদা ফুল দিয়ে বাড়িঘর সাজিয়ে রাখতেন। পাড়ায় পূজা পার্বণ হলে গাঁদা ফুল দিয়ে দেবতাদের প্রণাম করত। জুম চাষ জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎস্যের পাশাপাশি পাহাড়িদের ঐতিহ্য ধরে রাখতেও মূখ্য ভূমিকা পালন করে।

উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা টুটন দাশ বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের কৃষি প্রশিক্ষণ, মাঠপর্যায়ের কৃষি পরামর্শ ও বিভিন্ন কিটনাষক সহযোগিতা দেয়ার কারনে, কৃষকেরা এখন চাষাবাদ সম্পর্কে জানে। কৃষি প্রশিক্ষণের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে চাষাবাদ করলে জুম চাষে লাভবান হতে পারবে। মাঠ পর্যায়ের কৃষি পরামর্শে জন্য আমরা সব সময় আছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ওয়ালিদ হোসেন জানান, উপজেলায় দুই হাজার একশত পনেরো হেক্টর জায়গার উপর তিন হাজার নয়শত পনেরো জন কৃষক জুম চাষ করে থাকেন। এবছর উৎপাদানের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে অনুমানিক ৪৫০  মেট্রিক টন ধান। এবছর উপকুল আবহাওয়া বিরাজ করায় পাহাড়ের আউশ জাতীয় ধান ভালো হয়েছে। আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে কৃষকেরা জুমের পাকা ধান কাটা শুরু করেছে, অক্টোবর মাস পর্যন্ত ফসল সংগ্রহের কাজ চলবে ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category