ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জমি নিয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ,
অসীম চন্দ্র দাস স্টাফ রিপোর্টার(ব্রাহ্মণবাড়িয়া)।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় মাত্র ১ দশমিক ৮১ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দেওয়ার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শাহবাজপুর মুন্সিহাটি ওবায়দুল্লাহ সড়কে এই সংঘর্ষ ঘটে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় বর্তমান ইউপি সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শাহবাজপুর মুন্সিহাটি এলাকার বাসিন্দা তথা স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহীন আলমের বড় ভাই হাজি বিল্লাল মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার আবু আহমেদের ছেলে ইলিয়াস মিয়া ও আওলাদ হোসেনের লোকজনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। বিষয়টি মীমাংসার জন্য পূর্বে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অভিযোগ দেওয়া হলেও হাজি বিল্লাল মিয়ার পক্ষ আপত্তি জানিয়ে চলে আসায় তা অমীমাংসিত থেকে যায়।এরই মধ্যে, সরাইলের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পদে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি ও পাল্টাপাল্টি পোস্ট দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি করে। আজ সকালে সেই উত্তেজনার সূত্র ধরেই উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।সংঘর্ষে বর্তমান ইউপি সদস্য মালেক মিয়াসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।আহত ইউপি সদস্য মালেক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “সকালে বিল্লাল মিয়ার লোকজন আমাদের বাড়ির লোকজনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।” অন্যদিকে ইলিয়াস মিয়া দাবি করেন, “জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছিলাম। বিল্লাল মিয়ার বাড়ির অংশে আমাদের প্রায় চার হাত জায়গা রয়েছে।”হাজি বিল্লাল মিয়ার ছেলে আশরাফুল আলম পাভেল ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতা শাহীন আলম অভিযোগ করেন, ফেসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেওয়ার পর আজ পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এই সহিংসতার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”