বান্দরবানে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের ৫ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষক নামটি শুনলেই শ্রদ্ধায় অবনত হয়ে সম্মান জানান সকলে। দেশের ভবিষ্যত গড়ার বহু কারিগরের সৃষ্টি হয় শিক্ষকের শাসন ও শিক্ষার মাধ্যমে। শৈশব, কৈশোরের প্রাপ্ত এই শিক্ষার শক্ত ভিত আমাদের আগামীর সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে দেয়। সেই শিক্ষকরাই আছেন কর্মজীবনে নানা প্রতিবন্ধকতার মাঝে হচ্ছেন বঞ্চনার স্বীকার।
রবিবার (৫ই অক্টোবর) সকালে বান্দরবান সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের হল রুমে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে দেশের ৬৪টি জেলার মতো বান্দরবানেও নিজেদের অধিকার আদায় ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা সহ ৫ দফা দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস) বান্দরবান শাখা ।
সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের দাবি তুলে ধরে বক্তারা বলেন মাধ্যমিক স্তরের অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট জনবল দেখভাল করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে ১ জন উপপরিচালক ও ২ জন সহকারী পরিচালক আছেন। যা চালাতে তারা হিমশিম খাচ্ছে। স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করলে শিক্ষা কার্যক্রমে আরো গতিশীলতা আসবে।
বক্তারা বলেন ইতিপূর্বে কারিগরি শিক্ষার জন্য কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর গঠিত হয়েছে। নীতিগত অনুমোদন দিলেও স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গঠন আলোর মুখ দেখেনি।
শিক্ষকদের ২য় দাবী হলো, সরকারি মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষকের এন্ট্রিপদ ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা।
বক্তারা বলেন মাধ্যমিকের ১৫ হাজার শিক্ষক কর্মকর্তাদের বিপরীতে পদোন্নতিযোগ্য পদ মাত্র ৪%। ফলে ৩২-৩৩ বছর চাকরি করেও পদোন্নতি ছাড়াই অধিকাংশ শিক্ষক অবসরে যান। শিক্ষকদের ৩য় দাবী , আঞ্চলিক উপপরিচালকের প্রশাসনিক এবং আর্থিক ক্ষমতা পূর্নবহালসহ সকল কার্যালয়ে স্বাতন্ত্র ও মর্যাদা রক্ষা।
৪র্থ দাবী, বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখার সকল শুন্যপদে নিয়োগ,
পদোন্নতি ও পদায়ন।
বক্তারা আরো বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর নিয়োগ বিধিমালা ২০২১ অনুযায়ী সিনিয়র শিক্ষক পদ থেকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এর ৫০% পদে পদায়নের বিধান থাকলেও বিগত ৫ বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
শিক্ষকদের ৫ম দাবী হলো, বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড এর মঞ্জুরী আদেশ প্রদান।তিন মাসের মধ্যে আপিল বিভাগের রায় বাস্তবায়নের কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষের পকহতে ইতিবাচক কেন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ভুক্তভোগী শিক্ষকদের হতাশা যেনো বেড়েই চলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের ন্যাযদাবী বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.ইউনুস সহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এসময় বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মমতাজ, সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ হারুন, সিনিয়র শিক্ষক শিমুল কুমার দাসসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, জেলায় সরকারি ৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪০০ টি শিক্ষকের পদ আছে। বাস্তবতায় প্রধান শিক্ষকের পদ সহ কর্মরত আছেন ১০০ এর কম।
সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ সিপ্টে ৫২ জন শিক্ষকের স্থলে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন ১৬ জন। বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন ১৪ জন। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠ দানেও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। ফলে মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না।

