৮ দফা দাবীতে বান্দরবানে ১৩ অক্টোবর সকাল সন্ধ্যা হরতাল
নিজস্ব প্রতিবেদক: বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় রাজার সনদ বাতিল, পার্বত্য শাসনবিধি ১৯০০ বাতিল করা, বাজার ফান্ড প্লটের লীজের মেয়াদ ৯৯ বছর এবং বন্ধ রাখা ব্যাংক ঋণ পুনরায় চালু করাসহ ৮ দফা দাবীতে আগামী সোমবার ১৩ অক্টোবর বান্দরবানে সকাল সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ ও সর্বস্থরের জনগণ।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে শহরের একটি হোটেলের হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো: মজিবর রহমান।
অন্যান্যদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বান্দরবান শাখার সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মো: নাছির উদ্দীন, দপ্তর সম্পাদক মো: শাহ জালাল, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আবছারসহ সংবাদকর্মীরা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী মো: মজিবর রহমান বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় আমরা বাঙ্গালীরা বৈষাম্যের স্বীকার। এখানে জায়গা ক্রয় করতে কেনো রাজার সনদ লাগবে? শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেতে কেনো রাজার সনদ লাগবে? আমরা কী বাংলাদেশী নাগরিক না? ৬১ জেলায় এক আইন আর তিন পার্বত্য জেলায় ভিন্ন আইন, এটা কেন হবে? সুতরাং এক দেশে দুই আইন চলতে পারেনা এবং এই রাজার সনদ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
এই হরতালে জমি ক্রয়-বিক্রয়, চাকুরী, শিক্ষাসহ সর্বক্ষেত্রে রাজার সনদ বাতিল করাসহ মোট আট দফা দাবী পেশ করেন সংগঠনটি যার মধ্যে রয়েছে:
১. ব্রিটিশ রচিত প্রহসনের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০ বাতিল করে সংবিধানের আলোকে তিন পার্বত্য জেলার শাসন ব্যবস্থা চালু করা।
২. ৬১ জেলার ন্যায় রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে জমি ক্রয়-বিক্রয় এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু করা।
৩. বাজার ফান্ড প্লটের লীজের মেয়াদ ৯৯ বছরে উন্নীত করা ও বন্ধ রাখা ব্যাংক ঋণ পূণরায় চালু করা।
৪. উন্নয়নের স্বার্থে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় পরিবেশ বান্ধব ইটের ভাটাসহ নতুন কলকারখানা চালু করা।
৫. আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে তিন পার্বত্য জেলায় প্রত্যহারকৃত ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পূনঃস্থাপন করা।
৬. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে চাঁদাবাজি, গুম, খুন, ধর্ষণ বন্ধ করে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে তিন পার্বত্য জেলায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
৭. শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, চাকুরী সহ সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করে সমান অধিকার প্রদান ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
৮. এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমানসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার লোকজন।
তিনি আরো বলেন, আগামী ১৩ অক্টোবরের হরতাল শুধুমাত্র বান্দরবান জেলায় পালন করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে এ কর্মসূচী পালন করা হবে।

