বান্দরবান ৩০০ নং আসনে ৫ রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন পত্র জমা
মো. হেলালুর রশিদ, বান্দরবান : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বান্দরবান ৩০০ নং আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন ৫ রাজনৈতিক দলের মনোনিতরা।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বান্দরবান জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার শামীম আরা রিনি’র হাতে এ মনোনয়ন পত্র জমা দেন।
মনোনয়ন পত্র যারা জমা প্রদান করেছেন,
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির আহবায়ক রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, জামায়াতে ইসলামীর জেলা নায়েবে আমির এডভোকেট আবুল কালাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় পার্টি (কাদের) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ এবং এনসিপি চট্টগ্রাম বিভাগীয় তত্বাবধায়ক আবু সাঈদ শাহা সুজাউদ্দিন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তফশিল ঘোষণার পর সারাদেশের মতো পার্বত্য জেলা বান্দরবানেও ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনী আমেজ। পাহাড়, বন ও নদীবেষ্টিত পর্যটন নগরী বান্দরবান বরাবরই বহুসংস্কৃতির এক সম্প্রীতির জনপদ হিসেবে পরিচিত। এ অঞ্চলে বাঙালিসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ১২টি সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থানে গড়ে ওঠা এই জেলায় এবারের নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮ হাজার ৮৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৮০৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯ জন। জেলার সাতটি উপজেলা ও দুইটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বান্দরবান-৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৮৬টি।
বান্দরবান-৩০০ নং আসনটি ১৯৯১ সাল থেকে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই আসন ঘিরে নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়েছে। বিএনপি এই আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামিসহ স্বতন্ত্র অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও সক্রিয়ভাবে গণসংযোগ চালাচ্ছেন।এবং প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে শহর, গ্রাম ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গণসংযোগ করে ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আদের প্রতিশ্রুতি।
বিএনপি’ মনোনিত প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী বলেন, নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই বিভিন্ন উপজেলায় গণসংযোগ করেছি। প্রতি উপজেলাতেই ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আগামী দিনের নেতা সমস্থ কিছুর কেন্দ্রবিন্দু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব কিছু বিশ্লেষন করে দলের পক্ষ থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। জাতীয়তাবাদি দলের একজন কর্মী হিসেবে উনার সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই অঞ্চল নিয়ে সবসময় আন্তরিক ছিল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামীতে সর্বক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ।
১৮৬টি ভোটকেন্দ্রে সকল জাতীসত্ত্বা ধানের শীষে প্রতীকে ভোট দেয়ার পক্ষে। জনগন যদি আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে জয়ী করে তাহলে সমৃদ্ধময় বান্দরবান গড়তে চেষ্টা করব।
মুলত বান্দরবান শিক্ষা,স্বাস্থ্য অর্থ সামাজিক খাতে পিছিয়ে আছে। পাহাড়টাকে কিভাবে যথাযথ ব্যবহার করলে আয় বৃদ্ধি করা যায়, পরিবেশ বান্ধব করা যায় তা চিন্তা চেতনা ও দলবদ্ধ ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।বৈষম্য হীন ভাবে সকল জাতীসত্তার লোকজনকে সাথে নিয়ে সমতলের মত সমান ভাবে বান্দরবানকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হবে।
জামায়াত প্রার্থী আ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামির বান্দরবান ৩০০ নং আসনে দাড়ি পাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী আ্যাডভোকেট আবুল কালামকে নির্বাচনী প্রচারনায় কেমন সারা পাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন পার্বত্য বান্দরবান ৩০০নং আসনটি ৭টি উপজেলা, দুইটি পৌরসভা প্রায় সাগে চার হাজার বর্গকিলোমিটার বিশাল এলাকা। এখানে সারাদেশের ধারাবাহিকতায় এখানে বান্দরবানেও দাড়ি পাল্লার মাধ্যমে পরিবর্তন চাচ্ছে এলাকার মানুষ। আমি গ্রামে গঞ্জে প্রত্যন্ত এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি বিশেষ করে মা-বোনেরা, সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ দাঁড়ি পাল্লার মাধ্যমে পরিবর্তন চেয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে জেলা জুড়ে।
নির্বাচনী মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন বান্দরবানের বেশির ভাগ ভোট কেন্দ্র আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রত্যন্ত এলাকায়। তবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যাপারে প্রশাসন থেকে যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছি ও এখনো অনুকূল রয়েছে কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে শেষ পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ধরে রাখতে পারবে কিনা যথেষ্ট সংশয় সন্দেহ রয়েছে বলে মত দেন তিনি। সেজন্য বান্দরবানের ১৮৬টি ভোট কেন্দ্রের প্রত্যেক কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে হবে। যাহাতে এলাকার ভোটাররা ভোটের দিন নির্ভয়ে নিজের ভোট প্রদান করতে পারে। জাল ভোট, পেশী শক্তির প্রভাব মুক্ত থাকে যাহাতে কেউ বে আইনি অস্ত্র প্রদর্শন করতে না পারে। এই বিষয়গুলো প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে এটি বান্দরবান বাসীর জোরালো দাবী। আর দাবী পূরণ করা না হলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।
তরুনদের বিষয়ে তিনি জানান প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটার রয়েছে বাংলাদেশে।তারাই বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনে ভুমিকা রাখবে ।অনুরূপভাবে বান্দরবানেও তরুণ ভোটার রাই পরিবর্তনের সূচনা করবে। যেহেতু তরুণরাই সামনে নেতৃত্বে আসবে। তারাও পরিবর্তনের চিন্তা করছে। যাতে তারুণ্যের নির্বাচন হয়। আগের জড়াজীর্ণ ব্যবস্থা, রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তন করে তারাও জুলাই ২৪ এর আন্দোলনকে সামনে রেখে কাজ করতে চাই এবং সেভাবেই তারা একটা পরিবর্তন চাই।সেটা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে দেখছে তারা।তরুণদের জন্য আমরা কর্মসংস্থানের কথা বলছি, এবং সেটা করবো।তরুণদের খেলাধুলার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি।
তরুনদের অনেক টিম দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করছি। মাদক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা থেকে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিচ্ছি।তারা তা বিশ্বাস করছে।
বান্দরবানের প্রধান সমস্যা দারিদ্রতা, শিক্ষা বাসস্থান ভূমি বন্দোবস্তি বন্ধ। মানুষের জীবন মান উন্নয়নের জন্য কাজকর্ম নেই। দুর্বল কৃষি অর্থনীতি,
এই সমস্ত বিষয় গুলো নিরেশন করায় মূল লক্ষ্য।
তবে সবগুলো উন্নয়নে শান্তি দরকার। এলাকায় বসবাসকারী সকল জাতি গোষ্ঠীদের সঙ্গে নিয়ে বৈষম্য দূর করে টেকসই উন্নয়ন করা হবে।
নির্বাচন উপলক্ষে ৩০০ আসন হতে একটি নির্বাচনী ইশতেহার যাবে। সৃষ্টিকর্তা যদি জয়ী করে জামাত ইসলামী ক্ষমতায় যায় ন্যায় বিচার, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করব। স্বাবলম্বী হতে যা যা করা প্রয়োজন তাই করা হবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিপ্লব পরিবর্তন আনবে। মৌলিক অধিকারসহ টেকসই উন্নয়ন করে বান্দরবান কে সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে পরিণত করবেন বলে জানান তিনি।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ বান্দরবান জেলার সভাপতি হাত পাখা মার্কার প্রার্থী মাওলানা মো: আবুল কালাম আজাদ -বলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে নমিনেশন দেওয়ার পর তফশিল ঘোষণার আগে জেলার৷ বিভিন্ন জায়গায় গণ সংযোগ করে জনগণের ব্যাপক সারা পেয়েছি। কারন জনগণ পরিবর্তন চাচ্ছে।
মনোনয়ন পাওয়ার পর জেলার অনেক এলাকায় গিয়েছি এবং ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।মানুষ পরিবর্তন চাচ্ছে। সরকার তফসিল ঘোষনার পর থেকে দেশে বিভিন্ন স্থানে মারামারি হানা হানি হত্যা হচ্ছে।লেভেল প্লেইন্ট পুরোপুরি নাই।প্রশাসননের কথা বার্তায় তাদের দূর্বলতা দেখা যাচ্ছে।নির্বাচন কমিশন যদি চায় দেশে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন উপহার দিতে পারবে।
তরুন ভোটাররা এমনিতেই পরিবর্তন চায়।তাদেরকে বলা হচ্ছে কর্মসংস্থান, চাকরির ক্ষেত্রে সমধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
প্রধান সমস্যা দূর্গম এলাকা, বিশেষ করে রুমা,রোয়াংছড়ি, ও থানচি এলাকায় নির্বাচনি প্রচারনা কালে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশচিত করতে হবে।অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যাবস্থায় গুরুত্ব দেয়া হবে।বিশ্বমানের পর্যটন ব্যবস্থা করা হবে।দুর্নীতি মুক্ত করা হবে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, বান্দরবান ৩০০ নং আসনে প্রাথমিক ভাবে কমবেশি মিলিয়ে ৩৪ টি ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এবার সবকটি কেন্দ্রকে ওয়াকিটকি ও স্টারলিং সংযোগের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন যোগাজোগের আওতায় রাখার প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।এবং উর্ধতন কতৃপক্ষের নির্দ্দেষ যথাযত পালনের পাশাপাশি সকল বাহিনীর সাথে নিয়মিত আলোচনার করে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহনের মাধ্যমে এই বার দেশবাসীকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।

