শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, এলাকায় চাঞ্চল্যর সৃষ্টি
মো: লোকমান হাকিম, রুমা (বান্দরবান): বান্দরবান রুমা উপজেলার জাবালুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় রাত ১০টার দিকে জামায়াতে ইসলামের একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন জামায়াত কর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন কর্মী পোস্ট দিয়ে লিখেন—“রুমা উপজেলায় জামায়াতে ইসলামের আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে”। তিনি কয়েকটি ছবি আপলোড করেন, যেখানে স্পষ্ট হয় বৈঠকটি মাদ্রাসার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় একাংশের দাবি—ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বৈঠক আয়োজন নিন্দনীয় ও অনৈতিক। তাদের মতে, মাদ্রাসা শিশু-কিশোরদের শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশাসনের জায়গা, সেখানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হওয়া উচিত নয়। অন্যদিকে, জামায়াত নেতাকর্মীরা বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলে দাবি করছেন।
মাদ্রাসাটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি খলিলুর রহমান একদিকে রুমা উপজেলা জামায়াতে ইসলামের আমীর, অন্যদিকে উক্ত মাদ্রাসার সভাপতি। ফলে তার দ্বৈত ভূমিকাকেই অনেকে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছেন।
উক্ত মাদ্রাসার সভাপতি ও রুমা উপজেলা জামায়াতে ইসলামের আমীর খলিলুর রহমান বলেন, তারা ইসলামিক দল হিসেবে মসজিদ মাদ্রাসায় বৈঠক করতে পারবেন। আইনগত বৈধতার প্রশ্ন তুললে তিনি বলেন এটি গণমাধ্যম কর্মীদের জানার বিষয় নয় মর্মে তিনি ফোন কেটে দেন।
জাবালুল কোরআন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো আজীম উদ্দিন ঘটনা স্বীকার করে বলেন, গতকাল বৈঠক হয়েছিলো এবিষয়ে মাদ্রাসার সভাপতির সাথে যোগাযোগ করেন। আমি কিছু বলতে পারছি না
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায় নি। তবে এলাকাজুড়ে মাদ্রাসায় রাজনৈতিক বৈঠক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বান্দরবান জেলার নায়েবে আমির এডভোকেট আবুল কালাম কে তিনি জানান বৈঠকের প্রসঙ্গে তিনি কিছু জানেন না তবে বিতর্ক সৃষ্টি না করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এবং রুমা উপজেলা আমীর খলিলুর রহমানের সাথে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলে জানাবেন বলে গণমাধ্যম কে অবহিত করেছেন।

