ছাত্র-জনতার সম্মিলিত শক্তির কাছে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটেছিল– বিজয় র্যালিতে সাচিং প্রু জেরি
বান্দরবান সংবাদদাতা: ৫ই আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এই দিনে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত শক্তির কাছে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটেছিল। তারা এই বিজয়কে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার এবং দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই অব্যাহত রাখাতে হবে। — প্রধান অতিথি হিসেবে সাচিং প্রু জেরি এ সব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়মী লীগের অবৈধ সরকারের মেয়াদে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা, মামলা, জুলুম ও চরম নির্যাতন নিপীড়ন চালানো হয়েছিল।
বুধবার (৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে তিনটায় রাজার মাঠ থেকে বান্দরবান বাজার প্রদক্ষিণ করে র্যালি মুক্তমঞ্চে এসে সমবেত হয়। পরে এক সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক সাচিং প্রু জেরি ও বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা।
সমাবেশে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা বলেন, যিনি ৩৫ বছর বান্দরবানের সস্প্রীতির রূপকার দাবি করে বান্দরবানে রাজত্ব করেছেন, তার বিরুদ্ধে ১২৭৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের দায়ে দুদক মামলার নির্দেশ দিয়েছে। সাবেক এমপি বীর বাহদুর বান্দরবানের মানুষকে অত্যন্ত লজ্জার মধ্যে ফেলেছেন। আমরা অবিলম্বে বীর বাহদুরকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।
তিনি আরো বলেন, বীর বাহদুর ২০১৫ সালে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট ডাকাতি করে একজন দুর্নীতিগ্রস্থ লোককে মেয়র বানিয়েছেন। রাজ পরিবার নিয়ে কটূক্তি করেছেন। ঐতিহ্যবাহী রাজপূণ্যাহ মেলা বন্ধ করে দিয়েছেন। অথচ বীর বাহাদুর ছিলেন রাজ পরিবারের একজন কর্মচারী।
তিনি নিজের স্বার্থের জন্য শিক্ষাবোর্ডকে কাজে লাগিয়ে নাম পরিবর্তন করেছেন। নিজের নামের সাথে উশৈচিং লাগিয়ে নিজেকে মার্মা সম্প্রদায়ের নেতা দাবি করেছেন। আমরা আজকে তার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির কথা শুনতে পাই। এটা লজ্জার। আমরা অবিলম্বে তাকে এবং তার সহযোগী দোসরদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।
সমাবেশে বান্দরবান জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক ওসমান গনি, যুগ্ন আহবায়ক লুসাই মং, মুজিবর রশিদ, আব্দুল মাবুদ, মশিউর রহমান মিঠুন, জাহঙ্গীর আলম, জসিম উদ্দিন তুষার, আবিদুর রহমান, রিটল বিশ্বাসসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা নিয়ে সমাবেশে হাজির হন নেতা–কর্মীরা। বিএনপি ছাড়াও যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষকদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও মিছিল নিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দেন। বিজয় র্যালি রাজার মাঠ থেকে শুরু হয়ে মধ্যম পাড়া, চৌধুরী মার্কেট, বান্দরবান বাজার হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্ত মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।