বান্দরবানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন করা হয়েছে সেনা রিজিয়ন কাপ ফুটবল প্রতিযোগীতা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বান্দরবানে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়েছে সেনা রিজিয়ন কাপ ফুটবল প্রতিযোগীতা।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪ টায় বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে আগত অতিথিরা বেলুন, ফানুস ও শান্তির প্রতিক পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধন করেন এ সেনা রিজিয়ন কাপ ফুটবল প্রতিযোগীতা।
উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে রোয়াংছড়ি উপজেলা দল বনাম রুমা উপজেলা দল।
অনুষ্ঠানে সাব জোন কমান্ডার, রোয়াংছড়ি ও টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সভাপতি মেজর এম এম ইয়াসিন আজিজ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আরা রিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবাগত জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশিদ, পিএসসি, জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম মাহমুদুল হাসান, পিএসসি, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাউছার , পিপিএম বার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মোঃ আবু তালেব, রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার, বান্দরবান ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি জাবেদ রেজা, প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চুসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ কর্মীরা ।
অনুষ্ঠানে শামীম আরা রিনি বলেন, বান্দরবান শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং তার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির জন্য সমাদৃত। পাহাড়ি জনপদে সেনা রিজিয়নের এমন ক্রীড়ামূলক আয়োজন নিঃসন্দেহে এক অনন্য উদাহরণ। খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ, শৃঙ্খলাপরায়ণ ও ভ্রাতৃত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করে। আমি বান্দরবান সেনা রিজিয়ন, জোন সদর ও সম্মিলিত ক্রীড়া পরিষদকে ধন্যবাদ জানাই এ মহৎ আয়োজনের জন্য। আশা করি, সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ টুর্নামেন্ট তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করবে, মাদক ও কুসংস্কার থেকে দূরে রেখে সুস্থ জীবনধারায় এগিয়ে দেবে। জয়-পরাজয় খেলাধুলার অংশ হলেও সবচেয়ে বড় জয় হলো ন্যায্য খেলা ও স্পোর্টসম্যানশিপ বজায় রাখা।
অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানিয়েছেন, বিশেষ অতিথি লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম মাহমুদুল হাসান, পিএসসি, জোন কমান্ডার বান্দরবান জোনের দূরদর্শী নেতৃত্ব, বিচক্ষণতা, ক্রীড়াবান্ধব মানসিকতা এবং আপ্রাণ প্রচেষ্টায় এ টুর্নামেন্ট আয়োজন সম্ভব হয়েছে। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে ও সদর জোনের সার্বিক সহযোগিতায় এই প্রতিযোগিতা সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে স্থানীয় ক্রীড়া চর্চাকে এগিয়ে নেবে।
বান্দরবান সেনা রিজিয়নের আয়োজনে ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা পাহাড়ি-সমতলের ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা, শান্ত-নিবিড় পাহাড় ও নদীর মিলনস্থল বান্দরবান আজ শুধু পর্যটনের জন্য নয়—খেলাধুলার জন্যও এক অনন্য সম্ভাবনাময় জেলা। পাহাড়ি ও সমতলের মানুষের ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে এ জেলা দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়াঙ্গনে অসাধারণ অবদান রেখে চলেছে। তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ, বলিষ্ঠ ও শৃঙ্খলাপরায়ণ করে গড়ে তোলার অন্যতম হাতিয়ার হলো খেলাধুলা।
প্রসঙ্গত এদিন দুইটি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম খেলায় লামা দল তিন শুন্য গোলে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলকে পরাজিত করে। দ্বিতীয় খেলায় রোয়াংছড়ি ও রুমা দলের মধ্যে গোলশূন্য ড্র হয়।

