এলজিইডির দুর্নীতি সমাচার -০১
দূর্নীতি করে পার পেয়ে যাচ্ছেন তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফ হোসেন
বিশেষ প্রতিনিধি
স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক দূর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চ:দা:) মো: শরীফ হোসেন, কুষ্টিয়া’র একটি কলরেকর্ড ফাঁস হয় যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। কল রেকর্ডে শরীফ হোসেন কে একজন প্রকৌশলী আপত্তিকর ভাষা প্রয়োগ করতে দেখে প্রতিবেদক অনুসন্ধানে নামে, তাছাড়া প্রকৌশলী শরীফ হোসেন স্ব প্রনোদিত হয়ে একটি দৈনিক পত্রিকায় রহস্যজনক সংবাদ প্রকাশ করতে সংশ্লিষ্ট পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে উৎসাহিত করার ফলে প্রতিবেদক শরীফ হোসেন এর দূর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে । এলজিইডির সুক্ষ দূর্নীতিবাজ প্রকৌশলী শরীফ হোসেন যার কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি পরতে পরতে দূর্নীতির বেড়াজালের ইশতেহার সম্বলিত ফিরিস্তি সাজিয়ে N,S,I মহাপরিচালক বরাবর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির তালিকা হতে নাম বাদ দেওয়ার লিখিত আবেদন করেন খোদ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ও সাবেক চুয়েট ছাত্র কাজী আবদুস সামাদ।
সুত্র মতে ঢাকা অঞ্চলের সাবেক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: শরীফ হোসেন সিটি কর্পোরেশনে প্রেষণে থাকাকালীন সময়ে দূর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হয়েছিলেন। পার্বত্য বান্দরবান জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে দায়িত্ব পালন কালীন পতিত আওয়ামী সরকারের সময়ে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা পরিচয়ে তিনি ভূয়া performance Security নিয়ে W/order দেওয়ার কারনে সাময়িক বরখাস্ত হন৷
বিগত আওয়ামী সরকারের আমলাদের আস্হাভাজন হওয়ায় অলৌকিক আশীর্বাদে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ও চাঁদপুর জেলার সমন্বয়ে একটি বড় লাভজনক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পাশাপাশি ৩ টি প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে পিডির দায়িত্ব নিয়ে প্রভাবশালী মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এর সাথে আঁতাত করে প্রতিটি কাজ থেকে ৫% হারে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মো:শরীফ হোসেনের বিরুদ্ধে। তাছাড়া তিনি ঢাকা অঞ্চলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভাইজড ইস্টিমেট অনুমোদন দিয়ে প্রতিজনের কাছ থেকে ২% হারে টাকা আদায় করতেন বলে সুত্র নিশ্চিত করেন।
সরেজমিনে এলজিইডি ঘুরে অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায় জুলাই- আগস্টে ছাত্র জনতার আন্দোলনকে প্রতিহত করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব এই প্রকৌশলী এলজিইডিতে আওয়ামীলীগ পন্হী প্রকৌশলীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
১৯৯২ সালে সহকারী প্রকৌশলী /উপজেলা প্রকৌশলী পদে চাকুরীতে যোগ দেওয়া মো: শরীফ হোসেন যশোরের অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলা, কক্সবাজার সদর উপজেলা, এবং নড়াইল জেলার সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
উপজেলা প্রকৌশলী থাকাকালীন সময়ে তিনি টেন্ডার ঘুপছি করে পছন্দের ঠিকাদারকে ১০% এর বিনিময়ে টেন্ডার দিয়ে বিল থেকে অতিরিক্ত ২% করে ঘুষ নেওয়ায় অভিযোগ রয়েছে৷
২০১২ সালে ততকালীন প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান কে ১ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে নির্বাহী প্রকৌশলী (চ:দা:) হিসাবে নাটোর জেলায় পদায়ন হন।
মো: শরীফ হোসেন এর দূর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে ২০১৩ সালে নাটোর জেলার ঠিকাদারগন আন্দোলন করলে তাকে শেরপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে বদলী করা হয়৷
আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর আশীর্বাদ নিয়ে তিনি দূর্নীতির স্বর্ণযুগের সুচনা করেন। এলজিইডির রক্ষনাবেক্ষন কাজে ঘাপলা করায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় এবং শাস্তি হিসাবে “তিরস্কার ” প্রদান করা হয়৷
তদবির বানিজ্যে উস্তাদ মো: শরীফ হোসেন অবৈধ টাকার বিনিময়ে তদবির চালিয়ে ২০১৬ সালে বান্দরবান জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে পোস্টিং নেন৷
কথায় আছে চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। বান্দরবান জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব নিয়েই কাজ না করিয়ে বিল প্রদান, এবং ভুয়া বিডি নিয়ে ঠিকাদারকে নিয়মবহির্ভূত অগ্রীম বিল প্রদান করায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং ৩ টি এস্টিমেন্ট বাতিল করে শাস্তি প্রদান করা হয়।
যেখানেই তিনি চাকুরী করেছেন সেখানেই ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাবে করে ঠিকাদার থেকে ঘুষ নিতেন বলে জনশ্রুতি আছে।
২০১৯ সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে দায়িত্ব দিলে তার দূর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে সিটি কর্পোরেশন এর সিইও তাকে প্রত্যাহার করার অনুরোধ করলে ২০২১ সালে তাকে সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রত্যাহার করা হয়৷
বর্তমানে কুষ্টিয়া অঞ্চলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চ:দা:) হিসাবে দায়িত্ব পালন করলেও এলজিইডি সদর দপ্তরে প্রায়ই ঘুরাঘুরি এবং আওয়ামী পন্হীদের নিয়ে গোপন মিটিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
জ্ঞাত বহির্ভূত আয় দিয়ে তিনি ঢাকার পান্থপথে ২৫০০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট ক্রয় করেন যার আনুমানিক মুল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা, ধানমন্ডি ৪ নং সড়কে ২০০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট মূল্য আনুমানিক ৫ কোটি টাকা, ঢাকা -মাওয়া রোডের পার্শ্ববর্তী শ্যামল ছায়া হাউজিং এ ২ টি ফ্ল্যাট মূল্য আনুমানিক ৫ কোটি টাকা, নড়াইলে আলিশান বাড়ি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আই ব্লক -এ ৪ কাঠা জমির উপর প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ তলা ভবন নির্মাণ করেন। যার একটি ফ্লোরে (৩০০০ বর্গফুট) তিনি নিজে বসবাস করছেন। ঢাকার পূর্বাচলে ৫ কাঠার ১ টি প্লট মূল্য আনুমানিক ৫ কোটি টাকা ছাড়াও নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
দণ্ডবিধির ১৮৬০ ধারা ৪০৯ :পাবলিক সার্ভেন্ট কর্তৃক আর্থিক অসাধুতা সর্বোচ্চ শাস্তি :
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ ধারা ৪ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও গোপন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। শাস্তি ৪ থেকে ১২ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
অথচ মো:শরীফ হোসেনকে পদোন্নতি দিয়ে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে পদায়ন আইনের বরখেলাপ বলে সরকারি চাকুরি বিশেষজ্ঞগন মনে করেন৷
তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শরীফ হোসেন প্রতিবেদককে বলেন, এগুলো মিথ্যা, আমার এত সম্পদ থাকলে আমি চাকুরী করার প্রয়োজন কি!

