সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আশুগঞ্জ সারকারখানা কলেজে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা। ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে ছেলের বউকে ধর্ষণের অভিযোগ। ডিমপাহাড়- টেন্ডুমুখ সড়কে পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২ আহত -৫ উদ্ধার অভিযানে ৩৮ বিজিবি। দুর্গম লাংলোক ঝর্ণায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিপদে পর্যটক, জীবন বাঁচাতে ছুটে গেল বিজিবি। বান্দরবানে বিদ্যাপীঠ নার্সিং ভর্তি কোচিংয়ের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত। অপ্রতিম হত্যাকান্ডে জড়িত ৩জন আটক আইফোন উদ্ধার। থানচিতে বলিবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: আগুন নিয়ন্ত্রণে ৩৮ বিজিবির তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপ। ‎ দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান: স্বদেশে ফিরে প্রথমবার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে বম শিশুদের আবেগঘন মুহূর্ত। পাড়ায় ফিরছে বম পরিবার, খাদ্য-ঘর-জীবিকায় সহায়তা দিচ্ছে সেনাবাহিনী। জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা, সামনে নবান্ন উৎসব।

নিষেধাজ্ঞার পর আংশিক উন্মুক্ত রুমা, পূর্ণ উম্মুক্তের প্রত্যাশা এলাকাবাসীর

Reporter Name / ২৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নিষেধাজ্ঞার পর আংশিক উন্মুক্ত রুমা, পূর্ণ উম্মুক্তের প্রত্যাশা এলাকাবাসীর

মো. লোকমান হাকিম, রুমা (বান্দরবান): বান্দরবানের রুমা উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কেওক্রাডং পাহাড় ও জাদিপাই ঝর্ণা পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি তুলেছেন স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী ও পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িতরা।

বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কেওক্রাডং এবং দৃষ্টিনন্দন জাদিপাই ঝর্ণা দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। শীত মৌসুমে হাজারো ভ্রমণপিপাসু এই এলাকায় ভিড় জমান। এতে হোটেল-রেস্তোরাঁ, জিপ গাড়ি চালক, নৌযান মালিক, গাইডসহ স্থানীয় কুটির শিল্পের কারিগর ও ব্যবসায়ীরা জীবিকা নির্বাহ করেন।

তবে গত কয়েক বছর ধরে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বগালেকসহ কেওক্রাডং ও জাদিপাই ঝর্ণায় পর্যটক যাতায়াত সীমিত রাখা হয়েছিল। এতে রুমার পর্যটন খাত একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়ে এবং শত শত পরিবার অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়।

সম্প্রতি প্রশাসনের উদ্যোগে বগালেক খুলে দেওয়ায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তারা আশা করছেন আসন্ন শীতে কেওক্রাডং ও জাদিপাই ঝর্ণাও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

বর্তমানে রুমায় নিবন্ধিত গাইডের সংখ্যা ৬২ জনের বেশি। এছাড়া শতাধিক জিপ গাড়ি চালক ও হেলপার, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী এবং পাহাড়ি নারীদের কুটির শিল্প সরাসরি পর্যটন নির্ভর। দীর্ঘদিন পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ খাতের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

স্থানীয় গাইড মো. আলমগীর জানান, “শীত মৌসুমে যদি পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকে, তাহলে আমরা পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকার পরিস্থিতিতে পড়ি। বগালেক খোলার পর এবার আশা করছি কেওক্রাডং ও জাদিপাই ঝর্ণাও খোলা হবে।”

বগালেক এলাকার নারী উদ্যোক্তা সিয়াম বম বলেন, “পর্যটক না এলে আমাদের হস্তশিল্প বিক্রি হয় না। গত কয়েক বছর ধরে আমরা বড় ধাক্কা খেয়েছি।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের দাবি, শীত মৌসুমে কেওক্রাডং ও জাদিপাই ঝর্ণা উন্মুক্ত রেখে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যথাযথ টহল ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি ও কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটনে সরকারি সহায়তা জরুরি।

তাদের মতে, পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হলে শুধু পর্যটকরাই উপকৃত হবেন না, বরং শত শত পরিবার জীবিকার সুযোগ পাবে, স্থানীয় অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং দেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category